Site icon My Classroom

কমনওয়েলথের ইতিহাস ও বিবর্তন সংস্থা পরিচিতি। সাধারন জ্ঞান

কমনওয়েলথের ইতিহাস ও বিবর্তন সংস্থা পরিচিতি।  সাধারন জ্ঞান

বিশ্ব জুড়ে আলোচিত সংস্থা পরিচিতি জেনে নিন এখানে। বিভিন্ন সংস্থা থেকে সাধারন জ্ঞান যেমন জাতিসংঘ, কমন ওয়েলথ, বিশ্ব বানিজ্য সংস্থা ইত্যাদি

ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে গঠিত দেশগুলো নিয়ে তৈরি কমনওয়েলথ মূলত বিশ্বব্যাপী সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে কমনওয়েলথ। বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই সংগঠনের অধীনে।

কমনওয়েলথ রিয়ালম (Commonwealth Realm)

উনবিংশ শতাব্দীতে উপনিবেশগুলোর জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ফলে ১৯৩১ সালের ওয়েস্টমিনিস্টার সংবিধি ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোকে স্বায়ত্তশাসনের স্বীকৃতি দেয়। ১৯৪৯ সালের লন্ডন ঘোষণার মাধ্যমে ব্রিটিশ রাজা বা রানিকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাখার বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করা হয়। বর্তমানে যুক্তরাজ্যসহ ১৫টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ রাজা বা রানিকে তাদের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মেনে নেয়, যাদের বলা হয় “Commonwealth Realms”। এই দেশগুলোতে রাজা বা রানি ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেলের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব করেন।

কমনওয়েলথ সচিবালয়

১৯৬৫ সালের ২৫ জুন কমনওয়েলথ সচিবালয় গঠিত হয় লন্ডনের মার্লবোরো হাউসে। এটি মূলত কমনওয়েলথ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমন্বয়ের জন্য একটি স্বাধীন সংস্থা হিসেবে কাজ করে। ১৯৭৬ সালের ১৮ অক্টোবর কমনওয়েলথ সনদ গৃহীত হয় এবং জাতিসংঘে পর্যবেক্ষক মর্যাদা লাভ করে।

কমনওয়েলথ সনদ

কমনওয়েলথ সনদ হলো সংস্থার ১৬টি মূল মূল্যবোধ ও লক্ষ্যকে সমন্বিত একটি দলিল, যা গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক শান্তি, পরিবেশ সংরক্ষণ, এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে গঠিত।

২০১১ সালে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সম্মেলনে এই সনদ সৃষ্টির প্রস্তাব গৃহীত হয়। এরপর ১১ মার্চ ২০১৩ সালে কমনওয়েলথ দিবসে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ এই সনদে স্বাক্ষর করেন। সনদে উল্লেখিত মূল অনুচ্ছেদগুলো হলো:

  1. গণতন্ত্র ও মানবাধিকার
  2. আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা
  3. সহনশীলতা ও সম্মান
  4. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  5. আইন ও সুশাসন
  6. টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষা
  7. স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ও বাসস্থানের সুযোগ
  8. লিঙ্গ সমতা ও যুব উন্নয়নের গুরুত্ব
  9. ছোট এবং দুর্বল রাষ্ট্রের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া
  10. নাগরিক সমাজের ভূমিকা

কমনওয়েলথ সনদ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা, সহযোগিতা ও পারস্পরিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কমনওয়েলথের ইতিহাস ও বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা

কমনওয়েলথের প্রধান পদ
২৮ এপ্রিল ১৯৪৯ সালে “কমনওয়েলথের প্রধান” পদটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রথম কমনওয়েলথ প্রধান ছিলেন রাজা ষষ্ঠ জর্জ। ১৯৫২ সালে তার মৃত্যু হলে, রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ কমনওয়েলথ প্রধান হন। সর্বশেষ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে রাজা তৃতীয় চার্লস ৫৬টি স্বাধীন দেশের এই জোটের প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

কমনওয়েলথ সংসদীয় সংস্থা (CPA)

কমনওয়েলথভুক্ত দেশের সংসদগুলোর সংস্থা CPA (Commonwealth Parliamentary Association) গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে। ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত CPA-এর বর্তমান নামকরণ হয় ১৯৪৯ সালে। বর্তমানে কমনওয়েলথের ৫৬টি দেশের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য মিলিয়ে CPA’র মোট ১৮০টি সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ CPA-এর সদস্যপদ লাভ করে। CPA-এর নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসনের মেয়াদকাল তিন বছর। বাংলাদেশের ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী CPA’র নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালনকারী প্রথম বাংলাদেশি

কমনওয়েলথ হাইকমিশন ও রাষ্ট্রদূত

কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলো যখন একে অপরের দেশে দূতাবাস স্থাপন করে, তখন তাকে হাইকমিশন এবং রাষ্ট্রদূতদের হাইকমিশনার বলা হয়।

বাংলাদেশ ও কমনওয়েলথ সম্পর্ক

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যুক্তরাজ্যের প্রচারমাধ্যমগুলোর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ১৯৭২ সালের ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ কমনওয়েলথের সদস্য হয়, যা ছিল প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বিভিন্ন সময় কমনওয়েলথ মহাসচিবের মাধ্যমে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালানো হয়।

জানা-অজানা কিছু তথ্য

কমনওয়েলথ জোটে যুক্ত থেকে বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের সম্মেলন

কমনওয়েলথ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয় আলোচনা করার জন্য প্রতি দুই বছর অন্তর কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের সম্মেলন (CHOGM) অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৪ সালের ১-১৬ মে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যা সেই সময়ে “কমনওয়েলথ প্রধানমন্ত্রী সম্মেলন” (Commonwealth Prime Minister’s Conference – CPMC) নামে পরিচিত ছিল।

১৯৭১ সালে এই সম্মেলনের নাম পরিবর্তন করে “কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের শীর্ষ সম্মেলন” (Commonwealth Heads of Government Meeting – CHOGM) রাখা হয় এবং ১৪-২২ জানুয়ারি সিঙ্গাপুরে প্রথমবারের মতো ভিন্ন দেশে এই শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর পর থেকে সম্মেলনটি বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

মহাদেশভিত্তিক কমনওয়েলথ সদস্য রাষ্ট্রসমূহ

এই বৈচিত্র্যময় সদস্য রাষ্ট্রগুলো কমনওয়েলথের আদর্শ ও নীতিগুলো রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা সম্মেলনগুলোতে আরও সুদৃঢ় হয়।

Fact File: The British Commonwealth of Nations

সাধারন জ্ঞান কমনওয়েলথ সম্পর্কে

কমনওয়েলথ থেকে আসা বিগত সালের প্রশ্নোত্তর

১. কমনওয়েলথ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক) ১৯৪৬
খ) ১৯৪৮
গ) ১৯৫২
ঘ) ১৯৬৫
সঠিক উত্তর: ঘ) ১১ ডিসেম্বর ১৯৩১

২. ‘কমনওয়েলথ’-এর সদর দপ্তর কোথায়?
ক) প্যারিস
খ) পার্থ
গ) ম্যানিলা
ঘ) লন্ডন
সঠিক উত্তর: ঘ) লন্ডন

৩. কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট যে অট্টালিকায় অবস্থিত তার নাম কী?
ক) মার্লবোরো হাউজ
খ) হোয়াইট হাউজ
গ) বাকিংহাম প্রাসাদ
ঘ) দি চেকার্স
সঠিক উত্তর: ক) মার্লবোরো হাউজ

৪. কমনওয়েলথের প্রধান কে?
ক) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট
খ) ইংল্যান্ডের রানি/রাজা
গ) ভারতের প্রধানমন্ত্রী
ঘ) জাতিসংঘের মহাসচিব
সঠিক উত্তর: খ) ইংল্যান্ডের রানি/রাজা

৫. কমনওয়েলথের বর্তমান সদস্য সংখ্যা—
ক) ৮৮
খ) ৫০
গ) ৫২
ঘ) ৫৬
সঠিক উত্তর: ঘ) ৫৬

৬. একমাত্র কোন দেশ একইসাথে ওপেক এবং কমনওয়েলথ-এর অন্তর্ভুক্ত?
a) নরওয়ে
b) ওমান
c) নাইজেরিয়া
d) সৌদি আরব
সঠিক উত্তর: নাইজেরিয়া

৭. বাংলাদেশ কমনওয়েলথের কততম সদস্য?
a) ৩০তম
b) ৩২তম
c) ৩৪তম
d) ৩৬তম
সঠিক উত্তর: ৩২তম

৮. নিচের কোন কমনওয়েলথ রাষ্ট্রটি ব্রিটিশ শাসনের অধীনস্থ ছিল না?
a) দক্ষিণ আফ্রিকা
b) অস্ট্রেলিয়া
c) মালয়েশিয়া
d) মোজাম্বিক
সঠিক উত্তর: মোজাম্বিক

৯. কমনওয়েলথের কোন দেশটি যুক্তরাজ্যের রাজা ও রানিকে তাদের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকার করে?
a) অস্ট্রেলিয়া
b) সাইপ্রাস
c) কানাডা
d) মরিসাস
সঠিক উত্তর: অস্ট্রেলিয়া

Exit mobile version