[{"Value":"","Discard":false,"Expires":9999999999}]
The post BIMSTEC (বিম্সটেক)। উদ্দেশ্য ইতিহাস সদস্য দেশ। My Classroom appeared first on My Classroom.
]]>বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী দেশগুলোর অর্থনৈতিক এবং কারিগরি সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে একটি অর্থনৈতিক জোট গঠনের প্রথম ধারণাটি আসে ১৯৯৭ সালে। এর মূল উদ্যোক্তার ভূমিকা পালন করে থাইল্যান্ড। তারা এই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে এবং বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলংকার সঙ্গে যোগাযোগ করে। উক্ত দেশগুলো নীতিগতভাবে সম্মতি জানায় এবং জোটে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করে।
পরবর্তীতে, ৬ জুন ১৯৯৭, ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড এবং শ্রীলংকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ‘ব্যাংকক ঘোষণা’র মাধ্যমে BIMSTEC-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। শুরুতে এর নাম ছিল BIST-EC (Bangladesh, India, Sri Lanka, Thailand Economic Co-operation)।
২২ ডিসেম্বর ১৯৯৭, মিয়ানমারের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সংস্থার নামের সঙ্গে ‘M’ যুক্ত হয়ে BIMSTEC নামকরণ করা হয়। এরপর ৩১ জুলাই ২০০৪, ভুটান ও নেপালের সংযুক্তির মাধ্যমে BIMSTEC এর সদস্য সংখ্যা সাতে উন্নীত হয়। একই সময়ে এর পূর্ণ রূপ নির্ধারণ করা হয়: Bay of Bengal Initiative for Multi-Sectoral Technical and Economic Co-operation।
BIMSTEC শুরুতে ছয়টি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করেছিল। তবে, সময়ের সঙ্গে এর পরিধি বাড়তে থাকে। ২০০৫ সালে সাতটি নতুন খাত যুক্ত হয়ে মোট ক্ষেত্রের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩টি। পরবর্তীতে ২০২২ সালে, পূর্বের ক্ষেত্রগুলো সমন্বয় করে মোট ৭টি প্রধান খাত নির্ধারণ করা হয়। এই খাতগুলো হলো:
BIMSTEC-এ চেয়ারম্যানশিপ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঘুরে ফিরে পালিত হয়। বর্তমান চেয়ারম্যান হলেন থাইল্যান্ড।
৩০ মার্চ ২০২২, কলম্বোতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম শীর্ষ সম্মেলনে BIMSTEC-এর সনদ স্বাক্ষরিত হয়। এতে সংস্থার কাঠামো ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১১টি অধ্যায় এবং ৩৬টি অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০ মে ২০২৪, এই সনদ কার্যকর হয়।
৪ মার্চ ২০১৪, মিয়ানমারের নাইপিদোতে অনুষ্ঠিত BIMSTEC-এর তৃতীয় শীর্ষ সম্মেলনে সংস্থার স্থায়ী সচিবালয় ঢাকায় স্থাপনের জন্য সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ঢাকায় BIMSTEC সচিবালয় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এটি ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক সংস্থার সচিবালয়। সচিবালয়টি BIMSTEC-এর বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কার্যক্রম পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
BIMSTEC প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচটি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনগুলো সংস্থার নীতি নির্ধারণ এবং অগ্রাধিকার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
| সম্মেলন | তারিখ | স্থান |
|---|---|---|
| প্রথম | ৩১ জুলাই ২০০৪ | ব্যাংকক, থাইল্যান্ড |
| দ্বিতীয় | ১৩ নভেম্বর ২০০৮ | নয়াদিল্লি, ভারত |
| তৃতীয় | ৪ মার্চ ২০১৪ | নাইপিদো, মিয়ানমার |
| চতুর্থ | ৩০-৩১ আগস্ট ২০১৮ | কাঠমান্ডু, নেপাল |
| পঞ্চম | ৩০ মার্চ ২০২২ | কলম্বো, শ্রীলংকা |
BIMSTEC সহযোগিতার বিভিন্ন খাত কার্যকর করার জন্য সদস্য দেশগুলোতে বিশেষায়িত কেন্দ্র স্থাপন করেছে। এগুলো হলো:
BIMSTEC তার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি, কনভেনশন এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
BIMSTEC সম্পর্কিত তথ্য বিভিন্ন নিয়োগ ও একাডেমিক পরীক্ষায় প্রায়শই আসে।
১. BIMSTEC-এর সদর দপ্তর কোথায়?
উত্তর: ঢাকা, বাংলাদেশ।
২. BIMSTEC-এর বর্তমান মহাসচিবের নাম কী?
উত্তর: ইন্দ্র মণি পান্ডে (ভারত)।
৩. BIMSTEC কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ৬ জুন ১৯৯৭।
৪. BIMSTEC-এর শীর্ষ সম্মেলন কয়টি হয়েছে?
উত্তর: মোট পাঁচটি।
প্রশ্ন ১: BIMSTEC-এর পূর্ণরূপ কী?
উত্তর: Bay of Bengal Initiative for Multi-Sectoral Technical and Economic Co-operation।
প্রশ্ন ২: BIMSTEC-এর বর্তমান চেয়ারম্যান কে?
উত্তর: BIMSTEC-এর বর্তমান চেয়ারম্যান থাইল্যান্ড।
প্রশ্ন ৩: BIMSTEC বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: BIMSTEC একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোট, যা বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক এবং কারিগরি সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করে।
প্রশ্ন ৪: BIMSTEC কে প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর: BIMSTEC-এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা।
The post BIMSTEC (বিম্সটেক)। উদ্দেশ্য ইতিহাস সদস্য দেশ। My Classroom appeared first on My Classroom.
]]>The post মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শুরু থেকে শেষ। Current Affairs update appeared first on My Classroom.
]]>১৯৭১ সালের ২ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে তীব্র অসহযোগ আন্দোলন চলছিল। এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল কেন্দ্রীয় শাসনের বিরুদ্ধে স্বশাসন প্রতিষ্ঠা। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করে সাধারণ জনগণ। অসহযোগ আন্দোলন ছিল আমাদের স্বাধীনতার যাত্রার প্রথম পদক্ষেপ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেন ছাত্রনেতা আ. স. ম. আবদুর রব। এটি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম প্রতীক, যা স্বাধীনতার সংগ্রামের শুরু এবং জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
শাজাহান সিরাজ পল্টন ময়দানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দাবিগুলি নির্ধারিত হয়, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামকে আরও তীব্র করে তোলে। মুক্তিযুদ্ধে প্রথম শহীদ হন শঙ্কু সমজদার, রংপুর থেকে, যিনি স্বাধীনতার প্রথম তরুণ শহীদ হিসেবে চিহ্নিত।
৭ই মার্চ, ১৯৭১, ঢাকার রমনা রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ দেওয়া হয়। এটি ছিল জাতির উদ্দেশে তাঁর বিখ্যাত ভাষণ, যেখানে তিনি স্বাধীনতার ডাক দেন। এই ভাষণ ছিল বাংলাদেশ স্বাধীনতার পথে একটি শক্তিশালী কন্ঠস্বর এবং এটি জাতীয় চেতনায় নবজাগরণের সূচনা করে।
গাজীপুরের জয়দেবপুরে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্য এবং সাধারণ জনগণ প্রথমবার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র সংঘর্ষ।
২৫ মার্চ, পাকিস্তানি সেনারা ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ শুরু করে। এটি ছিল এক ভয়াবহ গণহত্যার সূচনা। পাকিস্তানি বাহিনী রাত্রির আঁধারে বাঙালিদের ওপর আক্রমণ চালায়, যা ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ। এর ফলে বহু নিরপরাধ মানুষ নিহত হয়, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্মরণ করা হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এটি ছিল বাংলাদেশের জন্মদিন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য এটি ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যেটি সারা জাতির জন্য নতুন আশার আলোর পথ দেখিয়েছিল।
তেলিয়াপাড়া চা-বাগানে মুক্তিবাহিনী গঠনের জন্য একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, সেনাবাহিনী, ইপিআর, পুলিশ এবং সাধারণ সশস্ত্র জনগণকে একত্রিত করে মুক্তিযুদ্ধ চালানোর জন্য একটি মুক্তিবাহিনী গঠন করা হবে। কর্নেল ওসমানী এই বাহিনীর প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন।
১০ এপ্রিল, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠন করা হয়। ছয় সদস্যের সরকার গঠনের পাশাপাশি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রও জারি করা হয়। এটি ছিল আমাদের স্বাধীনতার প্রথম সরকার, যা আমাদের ভবিষ্যত পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করে।
প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ভাষণ দেন, যেখানে তিনি সমগ্র দেশকে ৮টি সামরিক অঞ্চলে বিভক্ত করার ঘোষণা দেন। এই পরিকল্পনা ছিল মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন ও পরিচালনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
মুজিবনগর, বর্তমান মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হয়। তাজউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বে এই সরকার দেশের অস্থায়ী রাজধানী হিসেবে মুজিবনগরকে ঘোষণা করে।
৬ ডিসেম্বর, প্রথম বৃহত্তর যশোর জেলা পাক হানাদার মুক্ত হয়। এই দিনেই বাংলাদেশ প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়, যখন ভুটান প্রথম বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের সময়, পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগী মহল ১৪ ডিসেম্বর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। এই দিনটি শোকাবহ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালিত হয়।
মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত দিন ১৬ ডিসেম্বর, ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। ৯৩,০০০ পাকিস্তানি সেনার আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়। এটি ছিল বাংলাদেশের মুক্তির সূচনা এবং একটি নতুন জাতির উন্মেষের দিন।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চিরকাল স্মরণীয় রাখতে বিভিন্ন স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর নির্মিত হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে জাতীয় স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এটি মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের এক মহিমান্বিত স্মৃতি হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। এছাড়াও ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত স্বাধীনতা জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, এবং বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস চিত্রিত করে।
এই সমস্ত স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অমূল্য ধারক হিসেবে কাজ করছে, যাতে আগামী প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে জানার সুযোগ পায়।
The post মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শুরু থেকে শেষ। Current Affairs update appeared first on My Classroom.
]]>The post মার্কিন নির্বাচন ২০২৪। USA Election 2024 appeared first on My Classroom.
]]>যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস দ্বিকক্ষবিশিষ্ট, যার মধ্যে নিম্নকক্ষ হলো হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদ। এর আসন সংখ্যা ৪৩৫টি এবং মেয়াদ দুই বছর। উচ্চকক্ষ সিনেটের আসন সংখ্যা ১০০টি, যেখানে একজন সিনেটরের মেয়াদ ছয় বছর। প্রতি দুই বছর পর এক-তৃতীয়াংশ সিনেটরের পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
| বিষয় | রিপাবলিকান | ডেমোক্র্যাট |
|---|---|---|
| প্রতিনিধি পরিষদ | ২১৯ | ২১৩ |
| সিনেট | ৫৩ | ৪৭ |
| গভর্নর | ২৭ | ২৩ |
এবারের নির্বাচনে ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্য থেকে সারাহ ম্যাব্রাইড প্রথমবারের মতো একজন ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসে স্থান পান। মার্কিন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুইজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী—লিসা ব্লান্ট রচেস্টার (ডেলাওয়্যার) এবং অ্যাঞ্জেলা আলসোক্রকস (মেরিল্যান্ড)—সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া অ্যান্ডি কিম প্রথম কোরিয়ান আমেরিকান হিসেবে সিনেটর নির্বাচিত হন।
২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।
| প্রার্থী | ইলেক্টোরাল ভোট | পপুলার ভোট | শতকরা হার |
|---|---|---|---|
| ডোনাল্ড ট্রাম্প | ৩১২ | ৭,৬৭,০২,৩৬৫ | ৫০% |
| কমলা হ্যারিস | ২২৬ | ৭,৪১,৫০,৭৮৩ | ৪৮.৩% |
ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম এবং ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি গ্রোভার ক্লিভল্যান্ডের পর দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি দুই ভিন্ন মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি দুইবার অভিশংসিত হয়েও পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হয়েও নির্বাচনে জয়লাভ করেন। ২০ জানুয়ারি ২০২৫, ৭৮ বছর বয়সে দায়িত্ব গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট হবেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তার ‘রানিং মেট’ জেডি ভ্যান্স। আর মেলানিয়া ট্রাম্প পুনরায় ফার্স্ট লেডি হিসেবে হোয়াইট হাউসে ফিরবেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও টেসলা, স্পেসএক্স-এর মালিক ইলন মাস্ক। ভোটারদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে প্রতিদিন ১০ লাখ মার্কিন ডলার প্রদান করে নির্বাচনে আলোচনায় আসেন তিনি। ট্রাম্প তাঁকে Department of Government Efficiency (DOGE)-এর সহ-প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র নারীর ক্ষমতায়নে অগ্রগামী, তবে এখনো কোনো নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়নি। ২০২৪ সালের নির্বাচনে কমলা হ্যারিসের ব্যর্থতা মার্কিন রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জকে পুনরায় সামনে এনেছে।
২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচন বিশ্বের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচন এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবর্তন ভবিষ্যতে দেশটির অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, সেটি সময়ই বলে দেবে।
মাই ক্লাসরুমের বিশেষ আয়োজন।
The post মার্কিন নির্বাচন ২০২৪। USA Election 2024 appeared first on My Classroom.
]]>The post দ্বি-কক্ষ আইনসভার ইতিকথা। সংজ্ঞা এবং উদাহরন। MyClassroom appeared first on My Classroom.
]]>বাংলাদেশের আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে, তা এখনো নির্ধারণ হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নির্বাচনের কোনো রোডম্যাপ দেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে দেশের মধ্যম সারির ও ছোট দলগুলো সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে, বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির মতে, দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ তৈরি হলে সংসদে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে এবং ভারসাম্য রক্ষা পাবে।
পার্লামেন্ট শব্দটি ফরাসি Parler (ল্যাটিন Parabolare) থেকে এসেছে, যার অর্থ আলোচনা বা কথোপকথন। প্রথমবার ব্রিটিশ রাজা ও আইনসভা ১২৩৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে একত্রে Parliament নামে পরিচিত হয়। বর্তমানে এটি আইনসভা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংবিধান অনুযায়ী আইনসভাগুলো পরিচালিত হয়, এবং এগুলো বিভিন্ন নামে পরিচিত। উদাহরণস্বরূপ:
কিছু আইনসভা এককক্ষবিশিষ্ট (Unicameral) এবং কিছু দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট (Bicameral)।
দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভায় দুটি কক্ষ থাকে:
এটি Checks & Balances প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইন প্রণয়নে ভারসাম্য নিশ্চিত করে।
উচ্চকক্ষের ভূমিকা: এটি একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান। উচ্চকক্ষ বিল পাসের আগে এটি পর্যালোচনা করে, যা কোনো একক দলের মনোপলির ঝুঁকি হ্রাস করে।
বাংলাদেশে আশির দশকে বিশিষ্ট বাম রাজনীতিবিদ সিরাজুল আলম খান প্রথম দ্বি-কক্ষ সংসদের দাবি তোলেন।
| দেশ | আইনসভা | নিম্নকক্ষ | উচ্চকক্ষ |
|---|---|---|---|
| ফ্রান্স | পার্লামেন্ট | ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি | সিনেট |
| ভারত | সংসদ | লোকসভা | রাজ্যসভা |
| জাপান | ডায়েট | হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস | হাউস অব কাউন্সিলর্স |
| পাকিস্তান | মজলিস-ই-শুরা | ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি | সিনেট |
| যুক্তরাজ্য | পার্লামেন্ট | হাউস অব কমন্স | হাউস অব লর্ডস |
| যুক্তরাষ্ট্র | কংগ্রেস | হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস | সিনেট |
বাংলাদেশে এটি চালু হলে দেশের রাজনৈতিক কাঠামোতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার আরও বিকাশ হবে।
দ্বি-কক্ষ আইনসভার ধারণা বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামোতে ভারসাম্য, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং আইনের কার্যকারিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
The post দ্বি-কক্ষ আইনসভার ইতিকথা। সংজ্ঞা এবং উদাহরন। MyClassroom appeared first on My Classroom.
]]>The post থ্রি জিরো তত্ত্ব গড়বে নতুন বিশ্ব। জানতে চাই 3 zero Theory appeared first on My Classroom.
]]>থ্রি জিরো বা তিন শূন্য তত্ত্ব একটি নতুন সামাজিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, যা বিশ্বকে দারিদ্র্যমুক্ত, কর্মসংস্থানমুখী এবং পরিবেশবান্ধব করার পরিকল্পনা প্রস্তাব করে। ড. ইউনূস এই তত্ত্বের মাধ্যমে নতুন এক সভ্যতার স্বপ্ন দেখিয়েছেন, যেখানে সমাজ, অর্থনীতি এবং পরিবেশ একত্রে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।
থ্রি জিরো তত্ত্ব তিনটি মূল লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে:
ড. ইউনূস মনে করেন, থ্রি জিরো লক্ষ্য অর্জনের জন্য চারটি প্রধান শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে:
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) বাস্তবায়নে থ্রি জিরো একটি কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে SDG অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে।
ড. ইউনূসের মতে, তরুণদের ক্ষমতায়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, এবং সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত উন্নয়নের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। থ্রি জিরো তত্ত্ব কৃষি খাতে বিপ্লব ঘটানোর পাশাপাশি শিল্প খাতেও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে থ্রি জিরো তত্ত্বের দারুণ প্রতিফলন দেখা যায়। অলিম্পিকের আয়োজন পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের ওপর ভিত্তি করে করা হয়। যেমন:
২০২৪ সালে রোমে ড. ইউনূস এবং পোপ ফ্রান্সিস একত্রে পোপ ফ্রান্সিস-ইউনূস থ্রি জিরো ক্লাব চালু করেন। এ ক্লাবের উদ্দেশ্য হলো, মানবতার জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা। বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ৪,৬০০টিরও বেশি থ্রি জিরো ক্লাব রয়েছে, যা ড. ইউনূসের ধারণায় অনুপ্রাণিত।
ড. ইউনূসের থ্রি জিরো তত্ত্ব শুধুমাত্র একটি তত্ত্ব নয়; এটি একটি বৈপ্লবিক দৃষ্টিভঙ্গি, যা সমগ্র বিশ্বের দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং পরিবেশগত সমস্যার সমাধানে দিকনির্দেশনা দেয়। এটি ভবিষ্যতে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে আরও বৃহৎ পরিসরে আলোচিত হবে এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
বিশ্বকে সমতাভিত্তিক এবং টেকসই ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নিতে ড. ইউনূসের থ্রি জিরো তত্ত্ব একটি অনন্য উদাহরণ। এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্য একটি নতুন সভ্যতার পথপ্রদর্শক।
The post থ্রি জিরো তত্ত্ব গড়বে নতুন বিশ্ব। জানতে চাই 3 zero Theory appeared first on My Classroom.
]]>