[{"Value":"","Discard":false,"Expires":9999999999}]
The post ধাতু কি? ধাতু কত প্রকার ও কি কি? বাংলা ব্যকরণ। Class 6 to HSC appeared first on My Classroom.
]]>বাংলা ভাষার ব্যাকরণে ধাতু একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি ক্রিয়ার সেই মূল অংশ যা বাক্যে ক্রিয়ার ভাব প্রকাশের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। ধাতু থেকে ক্রিয়াপদ গঠিত হয় এবং এটি ব্যাকরণ ও বাক্য গঠনের একটি অপরিহার্য উপাদান। এখানে ধাতুর পরিচয়, প্রয়োজনীয়তা, শ্রেণিবিভাগ এবং বাংলা ভাষায় এর বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো।
ধাতু হলো ক্রিয়াপদের সেই মৌলিক অংশ যা কোনো বিভক্তি ছাড়া পাওয়া যায়। এটি মূলত ক্রিয়ার অর্থ প্রকাশ করে এবং বাক্যে ভাব প্রকাশের মূল ভিত্তি। যেমন: “পড়ছে” শব্দে “পড়” হলো ধাতু এবং “ছে” হলো বিভক্তি।
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তাঁর ‘ভাষাপ্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ’ গ্রন্থে বলেছেন:
“ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করিলে যে অবিভাজ্য মৌলিক অংশ পাওয়া যায়, যাহার দ্বারা ক্রিয়াপদের অন্তর্নিহিত ভাবটি মাত্র দ্যোতিত হয়, তাহাকে ক্রিয়া-প্রকৃতি বা ধাতু বলে।”
ধাতু শব্দটি বাংলা ভাষায় এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি, যা ছাড়া বাক্য সম্পূর্ণ হয় না। এটি ভাষার শক্তি এবং সৌন্দর্যের মূল অংশ।
ধাতু ছাড়া ক্রিয়াপদ তৈরি হয় না। বাক্য গঠনে ক্রিয়াপদের অপরিহার্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি বাক্যে সঠিক অর্থ প্রকাশের জন্য ক্রিয়াপদের সঠিক ব্যবহার আবশ্যক।
উদাহরণ:
ধাতু কেবল ক্রিয়াপদ নয়, কৃদন্ত শব্দ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণ:
সমাপিকা ক্রিয়া ছাড়া বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না। ধাতু ক্রিয়া গঠনে সাহায্য করে এবং ভাষার পরিপূর্ণতা নিশ্চিত করে।
ধাতু ভাষার ক্রিয়া সংক্রান্ত নিয়মের ভিত্তি। এটি বাংলা ভাষার ক্রিয়া এবং বাক্যের গঠনকে নিয়মতান্ত্রিক করে তোলে।
ধাতুর উৎপত্তি এবং প্রকৃতি অনুসারে এটিকে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে:
যেসব ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না এবং যা মূল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে মৌলিক ধাতু বলে।
উদাহরণ:
মৌলিক ধাতুর সঙ্গে “আ” প্রত্যয় যোগ করে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলে।
উদাহরণ:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বনাত্মক শব্দের সঙ্গে ধাতু যোগ করে যে নতুন ধাতু তৈরি হয়, তাকে সংযোগমূলক ধাতু বলে।
উদাহরণ:
মৌলিক ধাতুকে আরও তিনটি উপশ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে:
যেসব ধাতু প্রাকৃত ভাষা থেকে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় এসেছে, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বলে।
উদাহরণ:
তৎসম ধাতু, যা সরাসরি সংস্কৃত থেকে এসেছে।
উদাহরণ:
যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসেছে।
উদাহরণ:
সাধিত ধাতুকে গঠনরীতি ও অর্থের ভিত্তিতে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
বিশেষ্য বা বিশেষণের সঙ্গে “আ” যোগ করে যে ধাতু গঠিত হয়।
উদাহরণ:
মৌলিক ধাতুর সঙ্গে প্রেরণা অর্থে “আ” যোগ করে গঠিত।
উদাহরণ:
কর্ম অনুসারে ক্রিয়ার ধাতু।
উদাহরণ:
সংযোগমূলক ধাতু তৈরি হয় বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বনাত্মক শব্দের সঙ্গে ধাতু যুক্ত করার মাধ্যমে।
বাংলা ভাষার ধাতুকে বানানের ধরন অনুযায়ী ২০টি গণে ভাগ করা হয়েছে।
উদাহরণ:
বিভিন্ন ধাতুর গণ:
| গণ | উদাহরণ |
|---|---|
| হ-আদিগণ | হওয়া |
| খা-আদিগণ | খাওয়া |
| উল্টা-আদিগণ | উল্টানো |
ধাতু বাংলা ভাষার একটি অপরিহার্য উপাদান। এটি ক্রিয়াপদ গঠনের মূল ভিত্তি এবং ভাষার গঠন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। ধাতুর বিভিন্ন শ্রেণি এবং বৈচিত্র্য বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে। সঠিকভাবে ধাতুর ব্যবহার ভাষার ভাব প্রকাশকে স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট করে তোলে। ধাতুর উপর ভিত্তি করেই বাংলা ভাষা তার নিজস্ব গৌরব ও স্বকীয়তা বজায় রেখেছে।
The post ধাতু কি? ধাতু কত প্রকার ও কি কি? বাংলা ব্যকরণ। Class 6 to HSC appeared first on My Classroom.
]]>