[{"Value":"","Discard":false,"Expires":9999999999}]
The post বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা Class 6 to 12 SSC HSC appeared first on My Classroom.
]]>বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনাটি সহজ ও সাবলীল ভাষায় লেখা হয়েছে। যেন, একবার পড়লেই মুখস্থ হয়ে যায়। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ এর জায়গায় যদি আসে আদর্শ বিদ্যালয় তাহলেও রচনাটি লিখতে পারেন। Natural disaster essay is written for class- 3, 4, 5, 6, 7, 8, 9, 10
ভূমিকা
বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ এবং এর অবস্থান, জলবায়ু এবং ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রতি বছরই বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, খরা, ভূমিকম্প, নদীভাঙনসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ এই দেশে অগণিত মানুষের জীবন ও সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জনস্বাস্থ্য এবং অবকাঠামোর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে এবং ক্ষয়ক্ষতি রোধে পূর্বপ্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার, বেসরকারি সংস্থা এবং নাগরিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সঠিক সময়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করে এসব দুর্যোগের ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে বোঝায় প্রকৃতি ও তার উপাদানের অস্বাভাবিক পরিবর্তন, যা পরিবেশ, জনজীবন এবং অর্থনীতিতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে। সাধারণত মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা এসব দুর্যোগ হঠাৎ করেই ঘটে থাকে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়। বাংলাদেশে যে প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো বেশি দেখা যায় তার মধ্যে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন এবং কালবৈশাখী অন্যতম।
বাংলাদেশের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো বন্যা। এ দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, ভূতাত্ত্বিক কাঠামো, অতিবৃষ্টি, একই সময়ে প্রধান নদীসমূহের পানি বৃদ্ধি, নদীতে পলি জমা ইত্যাদি কারণে প্রায় প্রতিবছরই এই দেশ বন্যার শিকার হয়। বন্যা প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষকে গৃহহীন করে এবং ফসলের মারাত্মক ক্ষতি করে। অতীতে ১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৮৮, ২০০৪ সালের বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এর প্রভাব শুধু জীবন ও সম্পদ ধ্বংসেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তাকেও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে।
ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস বাংলাদেশে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড় প্রায় প্রতি বছরই উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে। এতে প্রচুর সংখ্যক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে এবং ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়। ১৯৭০ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে, যা এখনো মানুষের মনে বিভীষিকাময় স্মৃতি। ২০০৭ সালের সিডর এবং ২০০৯ সালের আইলা ঘূর্ণিঝড়ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণ হয়েছিল। এছাড়া ২০২০ সালে আঘাত হানা আম্পান এবং ২০১৯ সালের বুলবুল ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ায় খরার প্রভাব এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খরার কারণে ফসলের উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ে এবং জলাধার শুকিয়ে যায়। খরার কারণে মাটির আর্দ্রতা কমে যায় এবং তা জমির উর্বরতাকে প্রভাবিত করে। ফলে কৃষিজীবী মানুষজনকে দুর্ভোগ পোহাতে হয় এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বিপন্ন হয়ে ওঠে। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা সমূহ খরার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে একটি এবং প্রতিনিয়তই এরকম ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হয়। যদিও এখন পর্যন্ত বড় আকারের ভূমিকম্পে দেশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, তবে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে ক্ষয়ক্ষতি পরিলক্ষিত হয়েছে। ভূমিকম্পের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ঢাকায়, কারণ এখানে অবকাঠামো অনেকটাই দুর্বল। অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ভূমিকম্প-প্রতিরোধী অবকাঠামোর অভাবে ঢাকা শহর ভূমিকম্পের সময় মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।
নদীভাঙন বাংলাদেশের নদীমাতৃক অঞ্চলে এক বড় সমস্যা। নদীভাঙনের ফলে প্রতি বছর অনেক মানুষ তাদের বসতবাড়ি এবং কৃষিজমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা প্রভৃতি নদীগুলোর পাড়ে বসবাসকারী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। নদীভাঙনের কারণে এসব অঞ্চলের মানুষজনকে প্রায়শই স্থানান্তর করতে হয়।
বাংলাদেশের আরেকটি নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো কালবৈশাখী। চৈত্র-বৈশাখ মাসে সৃষ্ট এই ঝড় সাধারণত বজ্রপাত ও প্রবল বাতাসসহ আঘাত হানে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে মাঠে থাকা ফসলের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং অনেক সময় ঘরবাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের ক্ষতি হয়।
দুর্যোগের সময় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কমানোর জন্য পূর্বপ্রস্তুতি অপরিহার্য। সঠিক পূর্বাভাস এবং দুর্যোগকালীন করণীয় সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে, দুর্যোগের সময় তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবে এবং ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারবে। যেমন, বন্যার সময় সাইক্লোন শেল্টার বা আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহার এবং খাদ্য ও পানির সংস্থান করা জরুরি।
দুর্যোগপ্রতিরোধে উন্নত অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন্যার প্রতিরোধে বাঁধ এবং নদী খনন, উপকূলীয় এলাকায় সাইক্লোন শেল্টার তৈরি এবং ভূমিকম্পপ্রতিরোধী স্থাপনাগুলোর সংখ্যা বাড়ানো উচিত। খরার সময় কৃষিজমিতে সেচব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং পানির সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা দরকার।
সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে দুর্যোগ সংক্রান্ত নীতিমালা এবং পরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। যেমন, দুর্যোগকালীন সময়ে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা বাড়ানো। দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় ঘটানো একান্ত জরুরি।
দুর্যোগকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বপ্রথম জনগণের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা যেতে পারে। এজন্য দূরদর্শন, বেতার, পত্রপত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে সাধারণ মানুষের কাছে দুর্যোগকালীন প্রস্তুতির প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দেওয়া দরকার।
বন্যা ও খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে বৃক্ষরোপণ এবং বনায়ন কর্মসূচির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাছপালা ভূমিধস প্রতিরোধে সহায়ক এবং মাটির ক্ষয় রোধ করে। তাছাড়া বনায়ন পানি সংরক্ষণেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে এবং স্থানীয় জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা করে।
বাংলাদেশের জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এসব দুর্যোগের ক্ষতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের বাস্তবতা; তাই আমাদের সেই বাস্তবতার সাথে মানিয়ে চলতে হবে এবং কার্যকরী প্রস্তুতি ও প্রতিকার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ রোধে সাধারণ মানুষকে সচেতন ও প্রশিক্ষিত করার পাশাপাশি সরকার এবং বিভিন্ন সংস্থার সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে টেকসই পরিকল্পনা ও পরিবেশ বান্ধব কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।
সবশেষে
অনেকেই বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা pdf চেয়েছেন। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা class 8, আদর্শ গ্রাম রচনা ক্লাস ২, আদর্শ গ্রাম অনুচ্ছেদ রচনা, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা ৩য় শ্রেণি, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা ক্লাস 6, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা class 10 সহ সকল চাহিদার পূরন হবে এই পোস্ট। মাই ক্লাসরুম ফেসবুক পেজ এখানে
যেভাবে খুজে পাবেন: বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা সহজ ভাষায় ২০০ শব্দ, ৩০০ শব্দ, ৪০০ শব্দ, ৪৫০ শব্দে লেখা হয়েছে। বিভিন্ন ক্লাসের জন্য ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে রচনাটি লেখা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনাটি ৬ষ্ঠ ৭ম ও ৮ম শ্রেণির জন্য ১৫ পয়েন্ট ২০ পয়েন্ট করে লেখা হয়েছে। ৯ম ১০ম ১১শ ও ১২শ ক্লাসের জন্য ২৫ পয়েন্ট ও ৩০ পয়েন্ট করে লেখা হয়েছে। অনেকে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা pdf ডাউনলোড করতে চান। আপনি মাই ক্লাসরুম থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন না।
১১ থেকে ২০ গ্রেডের অনেক চাকরি পরীক্ষা লিখিত হয়। লিখিত চাকরী পরীক্ষাগুলোতে রচনা লিখতে হয়। লিখিত চাকরি পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্য উপযোগী করে এই রচনাগুলো লেখা হয়েছে। চাকরী পরীক্ষা যেমন- ইউনিয়ন সমাজকর্মী নিয়োগ পরীক্ষা, ইউনিয়ন সমাজকর্মীর জন্য বাংলা রচনা, খাদ্য অধিদপ্তর এর জন্য বাংলা রচনা প্রস্তুতি, বাংলাদেশ রেলওয়ে নিয়োগ পরীক্ষা প্রস্তুতি, বিসিএস লিখিত প্রস্তুতি, ব্যাংক লিখিত প্রস্তুতি সহ সকল সরকারি ও বেসরকারি চাকরি পরীক্ষার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।
The post বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা Class 6 to 12 SSC HSC appeared first on My Classroom.
]]>The post বাংলাদেশের বন্যা ও প্রতিকার রচনা ২০ – ৩০ পয়েন্ট appeared first on My Classroom.
]]>বাংলাদেশের বন্যা ও প্রতিকার রচনাটি সহজ ও সাবলীল ভাষায় লেখা হয়েছে। যেন, একবার পড়লেই মুখস্থ হয়ে যায়। বাংলাদেশের বন্যা ও প্রতিকার এর জায়গায় যদি আসে আদর্শ বিদ্যালয় তাহলেও রচনাটি লিখতে পারেন। Flood Effect of Bangladesh essay is written for class- 3, 4, 5, 6, 7, 8, 9, 10
ভূমিকা : নদীমাতৃক দেশ আমাদের এ বাংলাদেশ। এদেশের সর্বত্র জালের মতো ছড়িয়ে আছে নদী-নালা, খাল-বিল, হাওড়-বাঁওড় ইত্যাদি। বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৩০টি নদী রয়েছে এদেশে। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র এদেশের বড় নদী। ছোট নদীও রয়েছে অনেক। যেমন : তিস্তা, করতোয়া, মধুমতি, আড়িয়াল খাঁ, গড়াই, কপোতাক্ষ, ধরলা, সুরমা, কুমার, কর্ণফুলী, ইছামতি, মহানন্দা, ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যা, মাতামুহুরি ইত্যাদি।
এগুলো ছাড়াও রয়েছে অনেক শাখানদী, উপনদী ও অসংখ্য ছোট-বড় খাল-বিল, হাওড়-বাঁওড়। শুকনো মৌসুমে পানি তেমন না থাকলেও বর্ষার বৃষ্টিতে এসব নদ-নদী, খাল-বিল, হাওড়-বাঁওড় কানায় কানায় জলে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তার ওপর আবার অতিবৃষ্টি বা উজানের ঢল এসে অনেক সময় এমন অবস্থা সৃষ্টি করে যে, তখন নদী-নালা, খাল-বিল, মাঠ-ঘাট, বাড়ি-ঘর সবকিছু পানিতে নিমজ্জিত হয়। আর এ অবস্থা হলে তাকেই বলে বন্যা।
বন্যা বাংলাদেশের চিরপরিচিত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রাচীনকাল থেকে ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এদেশে প্রতিবছরই বন্যা দেখা দেয়। কিন্তু কোনো কোনো বছর এ বন্যার মাত্রা এতটাই বেশি হয় যে, তখন জীবন ও সম্পদের প্রচুর ক্ষতি সাধিত হয়। তার প্রভাবে জনজীবন ও দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। এমন ভয়াবহ বন্যা হয় ১৯৮০, ১৯৮৪, ১৯৮৭, ১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০০৪, ২০১৬, ২০১৯ সালে।
বাংলাদেশের উন্নয়ন যেসব কারণে বাধাগ্রস্ত হয় তার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে বন্যা। বন্যার কারণে প্রতিবছরই এদেশের জানমাল সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। ১৯৮৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের বন্যায় কী পরিমাণ ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছিল তার একটি চিত্র নিচের ছকে দেখানো হলো :
| সাল | প্লাবিত এলাকা | ক্ষতির পরিমাণ | স্থায়িত্ব |
|---|---|---|---|
| ১৯৮৪ | ২৫ হাজার বর্গমাইল এলাকা | ৩৫,০০০ কোটি টাকা সামগ্রিক আর্থিক ক্ষতি | ২৩ দিন |
| ১৯৮৭ | ৩৫ হাজার বর্গমাইল এলাকা, ৪০টি জেলা | ১ হাজার লোকের মৃত্যু, ৩৫,০০০ কোটি টাকা | ৬৪ দিন |
| ১৯৮৮ | ৩৯ হাজার বর্গমাইল এলাকা, ৫১টি জেলা | ১৬০০ মানুষ ও ২ লক্ষ গবাদিপশুর মৃত্যু, ৫০,০০০ কোটি টাকা | ৬৮ শতাংশ |
| ১৯৯৮ | প্রায় ৪৫ হাজার বর্গমাইল এলাকা, ৫৪টি জেলা | ৩০,০০০ কোটি টাকা | ৯০ দিন |
| ২০০৪ | আনুমানিক ৪০ হাজার বর্গমাইল এলাকা, ৪৬টি জেলা | ৪৪,০০০ কোটি টাকা | ২০ দিন |
| ২০১৬ | প্রায় ১২টি জেলার নিচু অঞ্চল | ৬৩৬ কোটি ৮২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা, ৬৫. শতাংশ | প্রায় ৯০ দিন |
| ২০১৯ | প্রায় ২৪টি জেলা প্লাবিত হয় | ৮৭ জন মানুষ মারা যায় |
২০১৯ সালের জুলাই মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ২৪টি জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির তৈরি হয়। এ বন্যায় বাংলাদেশের অন্তত ২৪টি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বিবিসি বাংলার তথ্যসূত্র মতে, জুলাই মাসের এ বন্যায় ১ কোটির বেশি মানুষ দুর্গত হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের জেলা কুড়িগ্রামে এবারের বন্যায় ইতহাসের সর্বোচ্চ পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৮ জুলাই যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ১২১ সে.মি. উপর প্রবাহিত হয়। বহু ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট, ফসলি জমি, মাঠ-ঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। সর্বশেষ ২০২২ সালের মে মাসে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলা ভয়াবহ বন্যার সম্মুখীন হয়।
বাংলাদেশের বন্যার কারণগুলোকে প্রধানত দু’ভাগে ভাগ করা যায়। ১. প্রাকৃতিক কারণ, ২. কৃত্রিম কারণ
১। প্রাকৃতিক কারণ : বাংলাদেশের বন্যার প্রাকৃতিক কারণসমূহ নিম্নরূপ-
ক) জলবায়ু : জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অধিকাংশ বন্যা সংঘটিত হয়ে থাকে।
খ) ভৌগোলিক অবস্থান : বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানই এদেশের বন্যার সবচেয়ে বড় কারণ। এদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গেছে অসংখ্য ছোট-বড় নদী। বর্ষাকালে এগুলোর প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে নিম্নাঞ্চল খুব সহজেই প্লাবিত হয় এবং বন্যা দেখা দেয়।
গ) অতিবৃষ্টি : বাংলাদেশ বৃষ্টিবহুল অঞ্চল। বর্ষাকালে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। ফলে বন্যা দেখা দেয়।
ঘ) উজানের ঢল : বাংলাদেশের অধিকাংশ নদীর উৎপত্তি ভারতে; বিভিন্ন পাহাড়-পর্বতে। বর্ষার মৌসুমে সেখানকার প্রচুর বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে এদেশের নদ-নদীর পানিপ্রবাহ মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে যায় এবং বন্যার সৃষ্টি হয়।
ঙ) হিমালয়ের বরফগলা পানি: পৃথিবীর বৃহত্তর পর্বতমালা আমাদের উত্তরে ভারতে অবস্থিত- যেখান থেকে আমাদের বেশ ক’টি নদ-নদীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উৎপত্তি। কাজেই হিমালয়ের বরফগলা পানি আমাদের নদ-নদী দিয়ে প্রবাহিত হলে বন্যার সৃষ্টি হয়।
‘ভারতের বাঁধ নির্মাণ: আমাদের অধিকাংশ নদ-নদীর উৎপত্তি ভারতে। ভারত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করে নদীর নিয়মিত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে। যেমন: ফারাক্কা বাঁধ, টিপাইমুখ বাঁধ ইত্যাদি। এসব বাঁধ নির্মাণের ফলে একদিকে শুকনো মৌসুমে আমরা যেমন পানিই পাই না অন্যদিকে তেমনই বর্ষার মৌসুমে বাঁধের সবগুলো ব্লুইসগেট একসাথে খুলে দেওয়ায় অতিরিক্ত পানিপ্রবাহ সৃষ্টি হয়। যার ফলে বন্যা দেখা দেয়।
খ) বনাঞ্চল উজাড়: একটি দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য প্রয়োজন ২৫% বনভূমি। কিন্তু আমাদের দেশের বনভূমির পরিমাণ শতকরা ১৭ ভাগ। এর ফলে প্রতিবছরই খরা-অনাবৃষ্টি অথবা অতিবৃষ্টি দেখা দেয় এবং বন্যার সৃষ্টি হয়।
ঘ) নদী ভরাট: আমাদের নদীগুলোর অধিকাংশই পলি জমে জমে প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় অল্প বৃষ্টিপাত বা পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেলেই বন্যা দেখা দেয়।
বাংলাদেশের বন্যা সমস্যার সমাধান বা প্রতিকার: বন্যা বাংলাদেশের জাতীয় উন্নতির পথে একটি বড় বাধা। এর সমাধান বা প্রতিকার অত্যন্ত জরুরি। নিচে বন্যা সমস্যার সমাধান বা তার প্রতিকারের উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
ক) বাঁধ নির্মাণ: বন্যা সমস্যা সমাধানের জন্য পরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।
খ) নদী খনন: নদীর নাব্যতা ঠিক রাখার জন্য নদী ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। নদী গভীর করে খনন করে দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করে দিলে আর বন্যা হবে না।
গ) পোল্ডার নির্মাণ: দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে স্থাপিত ৭% স্বয়ক্রিয় জোয়ার বিরোধী গেটের মতো করে কাঠামো দ্বারা সাগরের জোয়ার অনুপ্রবেশ রোধ এবং জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য পোল্ডার নির্মাণ করে পানি পাম্প করার ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
ঘ) সমন্বিত ব্যবস্থা: আমরা আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন প্রভৃতি দেশকে নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেও বন্যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।
ঙ) সতর্কীকরণ ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা: বন্যা সমস্যার সমাধান ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানোর জন্য বন্যার আগাম সতর্কীকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং বন্যার সময় ও পরবর্তী সময়ে পুনর্বাসনের সুব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বন্যা প্রতিবছরই আমাদের প্রচুর ক্ষয়-ক্ষতি করে; জাতীয় উন্নতিতে প্রবল বাধার সৃষ্টি করে। তবে এ ক্ষতির পাশাপাশি বন্যা উপকারও করে থাকে। বন্যার ফলে আমাদের জমিতে প্রচুর পলি জমে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে এবং ভালো ফসল ফলাতে সহায়তা করে।
তাছাড়া বন্যার সময় আমাদের যাতায়াত বা যোগাযোগব্যবস্থা সহজতর হয়। কিন্তু তারপরও বন্যা আমাদের কাম্য নয়। আমাদের জাতীয় উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীলতা। আর সেজন্য অতীব প্রয়োজন বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা। সেটি করতে পারলেই আমরা সবক্ষেত্রে সাফল্যের শীর্ষে আরোহণ করতে পারব।
সবশেষে
অনেকেই বাংলাদেশের বন্যা ও প্রতিকার রচনা pdf চেয়েছেন। বাংলাদেশের বন্যা ও প্রতিকার রচনা class 8, আদর্শ গ্রাম রচনা ক্লাস ২, আদর্শ গ্রাম অনুচ্ছেদ রচনা, বাংলাদেশের বন্যা ও প্রতিকার রচনা ৩য় শ্রেণি, বাংলাদেশের বন্যা ও প্রতিকার রচনা ক্লাস 6, বাংলাদেশের বন্যা ও প্রতিকার রচনা class 10 সহ সকল চাহিদার পূরন হবে এই পোস্ট। মাই ক্লাসরুম ফেসবুক পেজ এখানে
যেভাবে খুজে পাবেন: বাংলাদেশের বন্যা ও প্রতিকার রচনা সহজ ভাষায় ২০০ শব্দ, ৩০০ শব্দ, ৪০০ শব্দ, ৪৫০ শব্দে লেখা হয়েছে। বিভিন্ন ক্লাসের জন্য ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে রচনাটি লেখা হয়েছে। বাংলাদেশের বন্যা ও প্রতিকার রচনাটি ৬ষ্ঠ ৭ম ও ৮ম শ্রেণির জন্য ১৫ পয়েন্ট ২০ পয়েন্ট করে লেখা হয়েছে। ৯ম ১০ম ১১শ ও ১২শ ক্লাসের জন্য ২৫ পয়েন্ট ও ৩০ পয়েন্ট করে লেখা হয়েছে। অনেকে বাংলাদেশের বন্যা ও প্রতিকার রচনা pdf ডাউনলোড করতে চান। আপনি মাই ক্লাসরুম থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন না। ধন্যবাদ।
The post বাংলাদেশের বন্যা ও প্রতিকার রচনা ২০ – ৩০ পয়েন্ট appeared first on My Classroom.
]]>