[{"Value":"","Discard":false,"Expires":9999999999}]
The post যে সহে, সে রহে appeared first on My Classroom.
]]>মাই ক্লাসরুমে পাবেন গুরুত্বপূর্ন ভাবসম্প্রসারন Class 8, Class 9, Class 10 & ভাবসম্প্রসারন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার জন্য। আশাকরছি, ভাবসম্প্রসারনটি দেখে সহজেই মুখস্ত করতে পারবে।
যে সহে, সে রহে ভাবসম্প্রসারনটি যেকোন পরীক্ষায় কমন আসারমতো। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা ২য়পত্র সাজেশনে প্রায়ই ভাবসম্প্রসারনটি থাকে। তাহলে চলো শুরু করা যাক—
জীবনে সফল হতে হলে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা অপরিহার্য। এগুলো মানুষকে অভ্যন্তরীণ শক্তিতে বলীয়ান করে, যা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে।
মানবজীবন চ্যালেঞ্জ ও সংগ্রামে পরিপূর্ণ। দুঃখ-কষ্ট, রোগ-শোক, দারিদ্র্য এবং হতাশার মতো প্রতিকূল পরিস্থিতি মানুষকে মাঝেমধ্যে দিশেহারা করে তোলে। তবুও, যারা ধৈর্যশীল, তারা সংকল্প নিয়ে এগিয়ে গিয়ে সমস্ত বাধা জয় করতে সক্ষম হয়।
ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, সাহস ও অধ্যবসায় মানুষের জীবনে অপরিহার্য গুণ। এ গুণগুলির অভাবে জীবনের লাঞ্ছনা ও যন্ত্রণা সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। মহামানবরা এ গুণাবলির মাধ্যমে নিজেদের সাফল্য এবং মানবজাতির কল্যাণ নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্বের সব আবিষ্কার ধৈর্যের ফসল। জ্ঞানী-গুণীরা দীর্ঘ প্রচেষ্টায় মানবজীবনকে সমৃদ্ধ করেছেন। মহামানবদের ত্যাগ, ধৈর্য এবং সহনশীল মনোভাব আজকের সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলেছে।
ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা মানবজীবনের সুখ, শান্তি এবং প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি। ধৈর্যশীল মানুষই প্রতিকূলতাকে ধীরস্থিরভাবে জয় করে জীবনে সফলতার চূড়ায় পৌঁছাতে পারে।
এই পৃথিবীতে যারা ধৈর্যশীল ও সহনশীল, তারাই জীবনে সত্যিকারের সাফল্য ও স্থায়িত্ব অর্জন করে।
মানবজীবন কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ নয়; এর পথ নানা বাধা-বিপত্তিতে ভরা। জীবনের এই প্রতিকূল পথ অতিক্রম করেই সফলতা অর্জন করতে হয়। এ জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় গুণ হলো ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা। সহিষ্ণুতা মানুষের চরিত্রকে স্থিতিশীল করে, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বোঝাপড়া গড়ে তোলে। এটি মানুষকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে এবং ন্যায়ের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।
মহামানবদের জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, তাদের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার প্রকাশ রয়েছে। তারা মানুষের দুর্বলতাকে তিরস্কার না করে তাদের ভালো দিকগুলোকে সামনে এনেছেন। প্রভু যীশু এবং মহানবি মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন উদাহরণ হতে পারে। কঠোর পরিস্থিতির মধ্যেও তারা সহিষ্ণু ছিলেন এবং মানবতার কল্যাণে কাজ করেছেন। তাদের ধৈর্য ও ভালোবাসাই অসংখ্য মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করেছে।
ক্ষমা, দয়া, ধৈর্য এবং সহিষ্ণুতার মতো গুণাবলিই মানুষের প্রকৃত সাফল্য ও শান্তির মূল চাবিকাঠি। এ গুণগুলির বিকাশ ঘটিয়ে মানুষ নিজের জীবন এবং সমাজ উভয়কেই সমৃদ্ধ করতে পারে।
এই পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে মানুষকে সংগ্রাম করতে হয়। ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা যার রয়েছে, সে-ই জীবনের প্রতিকূলতা জয় করতে সক্ষম।
সহিষ্ণুতা ও ধৈর্য মানবজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গুণ। এটি মানুষকে শক্তি ও সাহস জোগায়, যা জীবনের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সাহায্য করে। পৃথিবীতে যারা ধৈর্যশীল, তারাই কাজের প্রতি স্থির থেকে সাফল্য অর্জন করে।
জীবনের প্রতিটি কাজেই বাধা-বিপত্তি আসে। যদি কেউ ধৈর্য হারিয়ে কাজ ছেড়ে দেয়, তবে তার সফল হওয়ার সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে তার জীবন ব্যর্থতায় ভরে ওঠে। অন্যদিকে, যারা সহিষ্ণু হয়ে সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে, তারাই জীবন সংগ্রামে জয়ী হয় এবং গৌরবের অধিকারী হয়।
সহিষ্ণুতা জীবনে সত্যিকারের আশীর্বাদ। এটি মানুষের অন্তরের শক্তি বাড়ায় এবং তাকে জীবনের কঠিন বাস্তবতা জয় করার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। সাফল্যের জন্য ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা অপরিহার্য।
ধৈর্য মানুষের জীবনে সাফল্যের চাবিকাঠি।
যার মধ্যে ধৈর্য ধারণের গুণ রয়েছে, সেই প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে জীবনে সফল হতে পারে। সহিষ্ণুতা হলো এমন একটি গুণ, যা মানুষকে সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় শক্তি জোগায়। জীবনের পথে নানা বাধা-বিপত্তি ও সংকট আসবেই, কিন্তু ধৈর্য ধরে এগিয়ে চললে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।
ধৈর্যশীল মানুষ ঠাণ্ডা মাথায় বড় সমস্যারও সমাধান করতে পারে। অন্যদিকে, অস্থিরচিত্ত মানুষ সহজ কাজও ভালোভাবে করতে ব্যর্থ হয়। প্রতিযোগিতামূলক এ পৃথিবীতে সফল হতে হলে সহনশীলতা অপরিহার্য। মহামানবদের জীবন দেখলে বোঝা যায়, তারা সবসময় বিপদ-আপদ ধৈর্য দিয়ে মোকাবিলা করেছেন এবং সফলতা অর্জন করেছেন। আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ইসলাম প্রচারে অসংখ্য নির্যাতন সহ্য করেও ধৈর্য হারাননি, যার ফলে তিনি সফল হতে পেরেছেন।
সহিষ্ণুতা জীবনের জন্য এক অনন্য গুণ। এটি মানুষকে সাফল্যের পথে পরিচালিত করে এবং জীবনে স্থায়িত্ব এনে দেয়। ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার চর্চাই মানুষের প্রকৃত বিজয় নিশ্চিত করে।
সহনশীলতা মানবজীবনের একটি মহান গুণ, যা জীবনে সাফল্য অর্জনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ধৈর্য ধারণ করে সমস্যার মোকাবিলা করলে, জীবনে অনেক বাধা সত্ত্বেও সফল হওয়া সম্ভব। তাই একজন মানুষের জন্য সহনশীলতা এবং ধৈর্যশীল হওয়া অপরিহার্য। ধৈর্যহীনতা জীবনে উন্নতি লাভের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
ধৈর্য এবং সহনশীলতা, জীবনের সংগ্রামে বিজয়ী হওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। জীবনের পথে অনেক বাধা, বিপদ ও হতাশা আসবে, কিন্তু এগুলোর সামনে ভেঙে পড়লে চলবে না। ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে এগুলোর মোকাবিলা করতে হবে। কখনও-কখনও, পথের উপর হাজারো বাধা দাঁড়াবে, কিন্তু যদি ভয় পেয়ে ধৈর্যহীন হয়ে পড়েন, তবে আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে।
জীবন একটি কঠিন যাত্রা, যেখানে প্রতিযোগিতা ও চ্যালেঞ্জ লেগে থাকে। “Life is a continuous competitive examination” – জীবন কখনও সহজ ছিল না, এবং কখনোই সহজ হবে না। “Rome was not built in a day” – যে সফলতা আমরা আজ দেখি, তা অর্জিত হয়েছিল দীর্ঘ সাধনা ও ধৈর্যের মাধ্যমে। ধৈর্য মানুষের জীবনের একটি মহৎ অলঙ্কার। আল কোরআনে বলা হয়েছে, “নিশ্চয় আল্লাহ্ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।” পৃথিবীতে যারা চিরকাল স্মরণীয় এবং সফল, তারা সকলেই ছিলেন ধৈর্য ও সহনশীলতার জীবন্ত উদাহরণ।
একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে, কার্লাইলের ফরাসি বিপ্লবের ওপর লেখা ইতিহাসের পাণ্ডুলিপিটি অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গিয়েছিল, কিন্তু তিনি তার অপরিসীম ধৈর্য ও সাধনার মাধ্যমে তা পুনরায় লিখে, চির অমর হয়ে আছেন আমাদের স্মৃতিতে। কাজেই, দেখা যায় যে, ধৈর্য ও সহনশীলতা হল জীবনে সফলতা অর্জনের প্রক্রিয়া, যা মানুষের আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি করে।
সহনশীলতা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গুণ, যা মানুষের উন্নতির পথ প্রশস্ত করে। এটি শুধু একজন ব্যক্তির কর্মক্ষমতাকে শক্তিশালী করে না, বরং তাকে জীবনের নানা প্রতিকূলতা ও অস্থিরতা মোকাবিলা করার ক্ষমতা দেয়। তাই, জীবনে সাফল্য পেতে হলে, মানুষকে অবশ্যই ধৈর্যশীল এবং সহনশীল হতে হবে। এটি মানুষের মন ও চরিত্রের বিকাশে সাহায্য করে এবং তাকে স্থিতিশীল ও সফল জীবনের দিকে পরিচালিত করে।
আরো গুরুত্বপূর্ন ভাবসম্প্রসারন:
“যে সহে সে রহে” একটি প্রবাদ বাক্য। এটি বাঙালি সংস্কৃতিতে প্রচলিত একটি নীতিবাক্য, যা ধৈর্যের গুণাবলী এবং সহিষ্ণুতার গুরুত্ব বোঝায়। এটি কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির উক্তি নয়, বরং বাঙালি প্রাচীন প্রজ্ঞার অংশ।
“Patience sustains life” বা “Those who endure, survive” এই অর্থে এটি ইংরেজিতে প্রকাশ করা যায়।
এই প্রবাদ বাক্যের ওপর একটি রচনার মূল বক্তব্য হতে পারে:
একদিন একটি ছোট্ট গ্রামে এক কৃষক ছিল। প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করেও তার ফসল তেমন ভালো হতো না। কিন্তু সে কখনো হাল ছাড়েনি। এক বছর প্রচণ্ড খরা দেখা দিল, তখনও সে তার ক্ষেত পরিচর্যা করল। পরের বছর বৃষ্টি হলে তার ফসল প্রচুর হলো। তখন সবাই বলল, “যে সহে সে রহে।”
এটি একটি প্রবাদ বাক্য (Proverbial Sentence), যা মানুষের নৈতিক শিক্ষা প্রদান করে।
এই প্রবাদ বাক্যের অর্থ হলো:
যে ব্যক্তি ধৈর্য ধরে ও সহিষ্ণু হয়ে জীবনযাপন করে, সে জীবনের সকল প্রতিকূলতা অতিক্রম করে টিকে থাকে। এটি জীবন সংগ্রামে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
সবশেষে:
আশা করছি যে সহে, সে রহে ভাবসম্প্রসারনটি পড়ে বুঝতে পেরেছো। ভাবসম্প্রসারনটি ভালো করে পড়ে নিজে নিজে লিখার চেষ্টা করো। SSC & HSC ভাবসম্প্রসারন হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ন। মাই ক্লাসরুম থেকে তোমরা সকল প্রকার ভাবসম্প্রসারন, রচনা, দরখাস্ত, প্যারগ্রাফ মুখস্ত করতে পারবে। তোমাদের জন্য শুভকামনা।
The post যে সহে, সে রহে appeared first on My Classroom.
]]>The post নানান দেশের নানান ভাষা বিনা স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা? ভাবসম্প্রসারন appeared first on My Classroom.
]]>মাই ক্লাসরুমে পাবেন গুরুত্বপূর্ন ভাবসম্প্রসারন Class 8, Class 9, Class 10 & ভাবসম্প্রসারন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার জন্য। আশাকরছি, ভাবসম্প্রসারনটি দেখে সহজেই মুখস্ত করতে পারবে। নানান দেশের নানান ভাষা বিনা স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা? ভাবসম্প্রসারনটি যেকোন পরীক্ষায় কমন আসারমতো। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা ২য়পত্র সাজেশনে প্রায়ই ভাবসম্প্রসারনটি থাকে। তাহলে চলো শুরু করা যাক–
বিশ্বজুড়ে প্রচলিত নানা ভাষার মাঝে মাতৃভাষা মানুষের কাছে সবচেয়ে প্রিয় এবং স্বাভাবিক ভাষা। মাতৃভাষার মাধ্যমে মানুষ মনের গভীরতম ভাব, সূক্ষ্ম অনুভূতি ও আবেগকে সহজে এবং সাবলীলভাবে প্রকাশ করতে পারে। বিদেশি ভাষা শেখা হলেও, মাতৃভাষার মতো আন্তরিকতা ও স্বতঃস্ফূর্ততার সাথে সে ভাষায় প্রকাশ সম্ভব হয় না।
শৈশব থেকেই মায়ের মুখে শেখা মাতৃভাষা মানুষের হৃদয়ের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। মাতৃভাষায় মনের ভাব প্রকাশের যে গভীরতা ও আত্মার সংযোগ আছে, তা অন্য কোনো ভাষায় খুঁজে পাওয়া যায় না। এই কারণে মাতৃভাষাই শিশুর বুদ্ধি ও বিকাশের জন্য সবচেয়ে সহায়ক।
মা, মাটি, আর মাতৃভাষা আমাদের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আমরা রক্ত দিয়েছি, আর সেই আত্মত্যাগের ফলে আজ বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত। তাই মাতৃভাষা আমাদের জন্য সর্বোচ্চ, মনের অন্তর্গত ভাব প্রকাশের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।
মূলভাব: পৃথিবীর সব ভাষার মধ্যে নিজ নিজ মাতৃভাষাই মানুষের জন্য সর্বোত্তম। মাতৃভাষায় মনোভাব সহজে প্রকাশ করা সম্ভব যা অন্য ভাষায় হয় না।
সম্প্রসারিত ভাব: মাতৃভাষা মানুষের সবচেয়ে প্রিয় এবং ভাব প্রকাশের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। অন্য ভাষার তুলনায় মাতৃভাষায় মানুষ তার মনের ভাব সহজেই প্রকাশ করতে পারে। প্রত্যেক জাতির ভাষায় একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকে যা আত্মিকভাবে যুক্ত থাকে, তাই মানুষের আনন্দ, দুঃখ এবং আবেগের সেরা মাধ্যম হয় মাতৃভাষা। দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা বহু ভাষায় পারদর্শী হতে পারেন, তবে মনের ভাব প্রকাশে তারা মাতৃভাষাকেই প্রাধান্য দেন। শিশুকাল থেকেই মানুষ তার ভাষার সাথে পরিচিত থাকে এবং সহজে অনুভূতি প্রকাশ করতে সক্ষম হয়। অন্য ভাষায় সাহিত্যের গভীরতা অর্জন কঠিন, যেমনটি দেখা যায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের ক্ষেত্রে, যিনি ইংরেজি সাহিত্যে মনোযোগ দিলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাতেই ফিরে আসেন। তাই মাতৃভাষাই মানুষের জন্য প্রিয়তম এবং ভাব প্রকাশের শ্রেষ্ঠ পন্থা।
মন্তব্য: মাতৃভাষা ছাড়া কোন ব্যক্তির প্রকৃত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। এজন্য সকলের উচিত মাতৃভাষার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা।
মাতৃভাষা মানুষের জন্য জন্মগত অধিকার, এবং এতে যে আনন্দ ও আত্মতৃপ্তি লাভ করা যায়, তা অন্য কোনো ভাষায় সম্ভব নয়। হাজার ভাষা থাকলেও মায়ের ভাষা মানুষের অনুভূতি ও ভাব প্রকাশের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। মনের গভীর ভাব ও আশা-আকাঙ্ক্ষার সঠিক বহিঃপ্রকাশ কেবল মাতৃভাষাতেই ঘটে।
ভাষা শুধু ভাব প্রকাশের মাধ্যম নয়, বরং পূর্ব প্রজন্মের জ্ঞান ও চিন্তাভাবনা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়। পৃথিবীর মানুষ যেমন বিভিন্ন চেহারার, তেমনি তাদের ভাষাতেও রয়েছে বৈচিত্র্য। প্রতিটি জাতির নিজস্ব ভাষা সেই জাতির সংস্কৃতি ও পরিচয়ের প্রতীক।
আমরা মাতৃভাষা ছাড়াও অন্য ভাষা শিখি; তবে কোনো বিষয় গভীরভাবে উপলব্ধি করতে এবং প্রকাশ করতে মাতৃভাষাই সবচেয়ে সহজ। মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা করে ইংরেজিতে সাহিত্য রচনা করতে গিয়ে বহু দুঃখ পেয়েছিলেন, এবং শেষমেশ বাংলা ভাষাতেই ফিরে এসে লেখেন তাঁর অমর রচনা ‘বঙ্গভাষা’। তাঁর জীবনেই প্রমাণিত যে মাতৃভাষা ছাড়া আত্মতৃপ্তি অসম্ভব।
যারা বিদেশে থাকেন, তাঁরাও বিদেশি ভাষায় কাজ চালালেও মাতৃভাষায় কথা বলতেই সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি পান। জাতীয় ও ব্যক্তিগত বিকাশে মাতৃভাষার গুরুত্ব অসীম। আমাদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসই বলে, মাতৃভাষা আমাদের কতটা মূল্যবান। যেমন মাতৃভূমি প্রিয়, তেমনই মাতৃভাষা প্রতিটি জাতির কাছে অমূল্য।
মাতৃভাষা মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, যা তাকে তার মনের ভাব সহজেই প্রকাশ করতে সহায়তা করে এবং পূর্ণ তৃপ্তি এনে দেয়।
স্বদেশি ভাষা বলতে মূলত মানুষের মাতৃভাষাকেই বোঝানো হয়। মাতৃভাষা ছাড়া আমাদের মনের ভাব পুরোপুরি প্রকাশ করা কঠিন হয়ে ওঠে। শিশু বয়স থেকেই আমরা মাতৃভাষায় কথা বলি, ভাবনা প্রকাশ করি; এটি আমাদের কাছে যেমন পরিচিত, তেমনই আত্মিক। মাতৃভাষা এমন একটি মাধ্যম যা দিয়ে আমরা সবচেয়ে সহজে, সাবলীলভাবে এবং প্রাণবন্তভাবে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারি। যদিও অনেকে বিদেশি ভাষা শিখে দক্ষ হয়ে ওঠে, কিন্তু মাতৃভাষার মাধ্যমে চিন্তা-চেতনার যে গভীরতা ও সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা যায়, তা অন্য ভাষায় সম্ভব নয়।
মানুষের জন্মভূমির সাথে তার আবেগ, পরিবেশ, সংস্কৃতি ও ভাষা মিলে এক গভীর সংযোগ সৃষ্টি করে। এই মাতৃভাষা সেই সংযোগের প্রধান বাহন যা মানুষকে স্বাচ্ছন্দ্য ও তৃপ্তি এনে দেয়। বিভিন্ন জাতির মধ্যে মাতৃভাষার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা তাদের সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটায়। পৃথিবীর ইতিহাসে যেসব জাতি তাদের মাতৃভাষায় জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষা-বিকাশে মনোযোগী হয়েছে, তারা অনেক ক্ষেত্রেই উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে।
বিশ্বের অসংখ্য বিদ্বান ও জ্ঞানী ব্যক্তি বিভিন্ন ভাষার ওপর দক্ষতা অর্জন করলেও তাদের অর্জিত জ্ঞানকে মাতৃভাষায়ই সেরা ভাবে প্রকাশ করতে পেরেছেন, কারণ মাতৃভাষার মাধ্যমে অনুভূতি ও চিন্তা সঠিকভাবে ফুটে ওঠে। তাই মাতৃভাষায় নিজের ভাব প্রকাশ করা অন্য ভাষায় পরিপূর্ণভাবে সম্ভব নয় এবং এই কারণেই মাতৃভাষার মাধ্যমেই মানুষ তার পূর্ণ তৃপ্তি লাভ করে।
আমাদের চিন্তা-চেতনা ও আশা-আকাঙ্ক্ষার রূপায়ণ ঘটে মাতৃভাষার মাধ্যমে। মাতৃভাষাই মানুষের ভাব প্রকাশের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও প্রিয় মাধ্যম, যার দ্বারা মানুষের মনের গভীর তৃপ্তি অর্জিত হয়।
মূলভাব: মাতৃভাষার মাধ্যমেই আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মনের ভাব প্রকাশ করি। মাতৃভাষার মতো প্রিয় আর মধুর কোনো ভাষা নেই।
মাতৃভাষা বা স্বদেশী ভাষা মাতৃস্তন্যস্বরূপ। মাতৃস্তন্য ব্যতীত যেমন শিশুর তৃষ্ণা কোনোকিছুতেই মেটে না, তেমনি মাতৃভাষা ছাড়া কোনো মানুষই প্রাণ উজাড় করে মনের ভাব ব্যক্ত করতে পারে না। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। জন্মের পর থেকে আমরা এ ভাষায় কথা বলি, মনের ভাব প্রকাশ করি, খাই-দাই, স্বপ্ন দেখি, ঘুমাই। এ ভাষার সাথে জড়িয়ে আছে আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের চেতনা। আমরা বাংলা ভাষায় যতটা সহজ ও সাবলীলভাবে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারি, অন্য কোনো ভাষায় সেটা কোনোক্রমেই সম্ভব নয়।
অনেক চেষ্টা-সাধনা করে আমরা বিদেশি ভাষায় দক্ষতা ও পারঙ্গমতা অর্জন করলেও মাতৃভাষার মতো করে আমরা তা ব্যক্ত করতে পারি না। বিদেশি ভাষা কখনো আমাদেরকে পরিপূর্ণরূপে পরিতৃপ্ত করতে পারে না। আমাদের স্বপ্ন-সাধ, আশা-আকাঙ্ক্ষা তাতে পরিপূর্ণতা পায় না। তাই শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে সবসময় মাতৃভাষার প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
কিন্তু আমাদের দেশে এমন অনেক মানুষ আছে, যারা নিজেদের ভাষাকে অবজ্ঞার চোখে দেখে, বিদেশি ভাষার প্রতি বেশি আগ্রহী হয়। এ ধরনের মানুষ জাতির জন্য কলঙ্ক। এরা অতি হীনমনের অধিকারী। এরা কখনো জীবনে জ্ঞানে পরিপূর্ণতা অর্জন করতে পারে না। কারণ তাদের রক্তমজ্জাতে মিশে আছে বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি। ওপরে ওপরে তারা যতই ইংরেজ বা ফরাসি সাজার চেষ্টা করুক, তারা তা কখনো করতে পারবে না।
দৃষ্টান্ত আমাদের প্রখ্যাত প্রতিভাধর কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। অনেক বেশি প্রতিভা ও পাণ্ডিত্য থাকা সত্ত্বেও তিনি ইংরেজি সাহিত্যে প্রতিষ্ঠা পাননি। শেষে ফিরে এসেছেন মাতৃভাষার কাছে। কবি আবদুল হাকিমের ভাষায় যারা মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা করেন, তাদের বংশ পরিচয় নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
বস্তুত মাতৃভাষা ছাড়া কোনো মানুষই পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হতে পারে না। পৃথিবীর হাজার হাজার ভাষা থাকলেও একমাত্র মাতৃভাষাই পারে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে; মনের তৃপ্তি মেটাতে। প্রতিটি মানুষের কাছে তার মায়ের মতো মাতৃভাষাও প্রিয়। কারণ এ ভাষার মধ্যেই জড়িয়ে রয়েছে তার অস্তিত্ব।
মাতৃস্তন্যের মতো মাতৃভাষারও কোনো বিকল্প নেই। একমাত্র মাতৃভাষাই পারে মানুষকে পরিপূর্ণ বিকশিত করতে।
আরো পড়ুন:
সবশেষে: আশা করছি নানান দেশের নানান ভাষা বিনা স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা? ভাবসম্প্রসারনটি পড়ে বুঝতে পেরেছো। ভাবসম্প্রসারনটি ভালো করে পড়ে নিজে নিজে লিখার চেষ্টা করো। SSC & HSC ভাবসম্প্রসারন হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ন। মাই ক্লাসরুম থেকে তোমরা সকল প্রকার ভাবসম্প্রসারন, রচনা, দরখাস্ত, প্যারগ্রাফ মুখস্ত করতে পারবে। তোমাদের জন্য শুভকামনা।
The post নানান দেশের নানান ভাষা বিনা স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা? ভাবসম্প্রসারন appeared first on My Classroom.
]]>