Application

জমি বন্ধক রাখার দলিল লেখার নিয়ম, জমি বন্ধকী চুক্তিনামা

Table of Contents

জমি বন্ধক কী এবং কেন প্রয়োজন?

জমি বন্ধক হলো একটি আর্থিক চুক্তি যেখানে জমির মালিক (বন্ধকদাতা) নির্দিষ্ট শর্তে তার জমি বন্ধক রেখে ঋণ গ্রহণ করেন। এটি সাধারণত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণের জন্য ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ব্যক্তিগত ঋণগ্রহণের ক্ষেত্রেও জমি বন্ধক রাখার প্রচলন রয়েছে।

জমি বন্ধকের প্রকারভেদ এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য

  1. সহজ বন্ধক (Simple Mortgage): বন্ধকগ্রহীতা জমির মালিকানার অধিকার পায় না, তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ না হলে জমি বিক্রি করে দেনা পরিশোধ করা হয়।
  2. দাবি বন্ধক (Mortgage by Conditional Sale): ঋণ পরিশোধের শর্তে জমির মালিকানা বন্ধকগ্রহীতার কাছে যায়।
  3. পুনঃক্রয়যোগ্য বন্ধক (Usufructuary Mortgage): ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধকগ্রহীতা জমি ব্যবহার করতে পারে।
  4. ঋণপত্র বন্ধক (English Mortgage): ঋণের পরিমাণ পরিশোধ না করা হলে জমির মালিকানা স্থায়ীভাবে বন্ধকগ্রহীতার কাছে চলে যায়।

জমি বন্ধকী চুক্তিনামার গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা

  • ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো।
  • আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
  • চুক্তির শর্ত অনুযায়ী উভয় পক্ষের অধিকার সংরক্ষণ।

একটি আদর্শ জমি বন্ধকী চুক্তিনামায় কী কী বিষয় থাকা উচিত?

  1. বন্ধকদাতার এবং বন্ধকগ্রহীতার নাম ও পরিচয়
  2. জমির বিস্তারিত বিবরণ (খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ, অবস্থান ইত্যাদি)
  3. বন্ধকের শর্তাবলী (বন্ধকের মেয়াদ, বন্ধকের পরিমাণ, সুদের হার ইত্যাদি)
  4. বন্ধকী জমির ব্যবহার এবং রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কিত নিয়মাবলী
  5. বন্ধকী জমি ফেরত দেওয়ার শর্তাবলী এবং প্রক্রিয়া
  6. চুক্তিতে স্বাক্ষর এবং সাক্ষীর নাম ও পরিচয়

স্ট্যাম্প পেপারের ব্যবহার এবং রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া

  • নির্দিষ্ট মূল্যের স্ট্যাম্প পেপারে বন্ধকী দলিল লিখতে হবে।
  • রেজিস্ট্রার অফিসে নথিভুক্ত করতে হবে যাতে এটি আইনি বৈধতা পায়।

জমি বন্ধকের ক্ষেত্রে আইনি দিকগুলো

  • ঋণ পরিশোধ না হলে আইনানুগভাবে জমি হস্তান্তরের ব্যবস্থা।
  • বন্ধকী দলিল যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা হলে তা আদালতে কার্যকর প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

চুক্তিপত্র তৈরি করার সময় সাধারণ ভুলগুলো এবং তা থেকে বাঁচার উপায়

  • জমির সম্পূর্ণ বিবরণ না দেওয়া।
  • সাক্ষীর স্বাক্ষর না রাখা।
  • স্ট্যাম্প পেপার ও রেজিস্ট্রেশন না করা।

জমি বন্ধক রাখার চুক্তিপত্রের নমুনা

জমি বন্ধকী চুক্তিপত্র

প্রথম পক্ষ (জমির মালিক / বন্ধক দাতা):

নাম: …………………, পিতা: …………………, ঠিকানা: …………………, জাতীয়তা: বাংলাদেশী, ধর্ম: ইসলাম, পেশা: ব্যবসা।

দ্বিতীয় পক্ষ (বন্ধক গ্রহীতা):

নাম: …………………, পিতা: …………………, ঠিকানা: …………………, জাতীয়তা: বাংলাদেশী, ধর্ম: ইসলাম, পেশা: ব্যবসা।


পরম করুণাময় আল্লাহর নামে অত্র বন্ধকী চুক্তিপত্র রচিত হইল। যেহেতু প্রথম পক্ষ, ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত, তফসিলে বর্ণিত জমির বৈধ মালিক এবং বর্তমানে নগদ অর্থের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করিয়া দ্বিতীয় পক্ষকে উক্ত জমি বন্ধক রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছেন। দ্বিতীয় পক্ষ উক্ত প্রস্তাব গ্রহণ করিয়া নিম্নে বর্ণিত শর্তাবলী অনুসারে জমি বন্ধক গ্রহণ করিতে সম্মত হইয়াছেন।

শর্তাবলী:

১। প্রথম পক্ষ নগদ ৩৫,০০০/- (পঁয়ত্রিশ হাজার) টাকা গ্রহণ করিয়া নিম্নে তফসিল বর্ণিত জমি দ্বিতীয় পক্ষের নিকট বন্ধক রাখিলেন। ২। যেহেতু বন্ধকী জমি ফসলী, তাই দ্বিতীয় পক্ষ উক্ত জমিতে স্বয়ং ফসলাদী উৎপাদন করিতে বা অন্য কাহারো মাধ্যমে চাষ করাইতে পারিবেন। ৩। যতদিন পর্যন্ত প্রথম পক্ষ দ্বিতীয় পক্ষকে সমুদয় অর্থ ফেরত প্রদান না করিবেন, ততদিন দ্বিতীয় পক্ষ উক্ত জমি ভোগ করিবেন এবং এতে প্রথম পক্ষ কোনো আপত্তি করিতে পারিবেন না। ৪। প্রথম পক্ষ যখন সম্পূর্ণ ৩৫,০০০/- (পঁয়ত্রিশ হাজার) টাকা পরিশোধ করিবেন, তখন দ্বিতীয় পক্ষ উক্ত জমির দখল হস্তান্তর করিতে বাধ্য থাকিবেন। ৫। প্রথম পক্ষ বন্ধকী জমি অন্য কাহারো নিকট হস্তান্তর করিতে পারিবেন না। অন্যথায়, দ্বিতীয় পক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন। ৬। যদি প্রথম পক্ষের মৃত্যু ঘটে, তবে তাহার ওয়ারিশগণ উক্ত টাকা পরিশোধ করিতে বাধ্য থাকিবেন। একইভাবে, দ্বিতীয় পক্ষের মৃত্যু ঘটিলে তাহার ওয়ারিশগণ প্রথম পক্ষকে জমির দখল ফেরত দান করিতে বাধ্য থাকিবেন। ৭। প্রথম পক্ষ বা তাহার ওয়ারিশগণ বন্ধকী চুক্তি সম্পর্কে কোনো আপত্তি তুলিতে পারিবেন না। তাহা সর্ব আদালতে বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে।

বন্ধকী জমির তফসিল:

জেলা: ঝালকাঠী
থানা: ঝালকাঠী

দাগ নম্বরজমির পরিমাণ
……………………
……………………

অত্র দলিল তিন (৩) পাতায় কম্পোজকৃত।

স্বাক্ষীগণের নাম ও স্বাক্ষর:

১। …………………
২। …………………
৩। …………………

প্রথম পক্ষ (দলিল দাতা): ____________________
দ্বিতীয় পক্ষ (দলিল গ্রহীতা): ____________________ও স্বাক্ষর: ___________

চুক্তিপত্র তৈরির সময় আইনজীবীর পরামর্শের গুরুত্ব

  • দলিলের ভাষা ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।
  • ভবিষ্যতে আইনগত জটিলতা এড়ানো।

জমি বন্ধকী চুক্তিনামা সংক্রান্ত প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন: বন্ধকী দলিল রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক কি? উত্তর: হ্যাঁ, এটি আইনি সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন: বন্ধকী চুক্তিপত্র না থাকলে কী সমস্যা হতে পারে? উত্তর: ঋণের পরিশোধ বা জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ দেখা দিতে পারে।

এই পোস্টটি আপনাকে জমি বন্ধকী চুক্তিনামা সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেবে এবং ভবিষ্যতে আইনি সমস্যা এড়াতে সহায়ক হবে।

আরো দেখুন: দরখাস্ত অনুপস্থিতির জন্য আবেদন লেখার নিয়ম

চাকরির আবেদনপত্র লেখার নিয়ম 

ছুটির জন্য আবেদন। নৈমত্তিক ছুটি, শিক্ষক ছুটি, অফিস ছুটির আবেদন

M@mun

Hasan Al Mamun is a dedicated teacher, blogger, and YouTuber who has achieved great success in his field. He was born to parents Shahjahan Topodar and Masrura Begum and grew up with a love for learning and exploration. After completing his Bachelor's degree, Hasan pursued a Master's degree in Accounting and excelled in his studies. He then began his career as a teacher, sharing his knowledge and passion for accounting with his students. In addition to teaching, Hasan is also an avid blogger and YouTuber, creating content that educates and inspires his viewers. His YouTube channel, "My Classroom," has grown to an impressive 240,000 subscribers, earning him a silver play button from YouTube. Hasan's interests include book reading, travelling, gardening, and writing, and he often incorporates these passions into his work. He strives to create an honest and supportive community in all of his endeavors, encouraging his followers to learn and grow alongside him. Overall, Hasan Al Mamun is a talented and dedicated individual who has made a significant impact in the fields of education, blogging, and content creation.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button